মাছের বাইপ্রোডাক্ট এর ব্যবহার : পার্ট-১ || Vikash Roy

কানেকটিভ টিস্যুর (যেমন চামড়া ও হাড়) তৈরির জন্য যে প্রোটিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে সেটাই কোলাজেন। আর এই কোলাজেনকে যখন স্বাদ ও গন্ধ মুক্ত করা হয় সংক্ষেপে সেটাই জিলেটিন। জিলেটিন প্রধানত পাউডার রুপে পাওয়া যায়। ওষুধ ফ্যাক্টরীতে এই যৌগটির ভুমিকা অনেক। খ্রিস্টানপ্রধান দেশগুলোর জিলেটিনের জোগান দেয় প্রধানত শুকরের চামড়া থেকে প্রাপ্ত কোলাজেন/জিলেটিন কিন্তু হিন্দু, মুসলিম কিংবা বৌদ্ধ প্রধান দেশগুলোর জন্য মাছের চামড়া ও হাড় থেকে প্রাপ্ত হালাল জিলেটিনই ভরসা। কিন্তু কষ্টের বিষয় বাংলাদেশ প্রায় ৩৮ লক্ষ মেট্রিকটন মাছ উৎপাদন করলেও শুধু জ্ঞান আর প্রযুক্তির অভাবে আমাদের ওষুধ কোম্পানিগুলোকে হালাল জিলেটিনের জন্য অন্যদেশের উপর নির্ভর করতে হয়। একদিন হয়তো যথেষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রযুক্তিবিদ পেলে ফিসারিজ বাই প্রোডাক্ট ইন্ড্রাস্ট্রি দাঁড়িয়ে যাবে। কোরিয়া মাত্র ২২ লক্ষ মেট্রিকটন মাছ উৎপাদন করলেও বিভিন্ন দেশে মাছের বাইপ্রোডাক্ট থেকে প্রাপ্ত দ্রব্যাদি রপ্তানি করে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করে।

কোলাজেন সরাসরি মানবটিস্যু রিপিয়ারের জন্যও ডাক্তারেরা ব্যবহার করেন। এটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে 3D প্রিন্টিং এও ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের চেনাপরিচিত তেলাপিয়া মাছের চামড়ায় প্রচুর কোলাজেন পাওয়া যায়। যা বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। তেলাপিয়ার চামড়া জীবানুমুক্ত করে ডাক্তাররা সরাসরি পুড়ে যাওয়া চামড়ার ক্ষত সারিয়ে তুলছেন। তোমরা যারা ভবিষ্যতে গবেষণা করতে চাও ফিসারিজ বাইপ্রোডাক্ট প্রোসেসিং তোমাদের জন্য অনেক বড় একটা ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছে।

লেখাঃ Vikash Roy
Assistant Professor,
Dept. Of Fisheries Technology, HSTU

Facebook Comments